কিভাবে পাইথনের বেসিকস শিখবো?

বেসিক থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের পাইথন প্রোগ্রামার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা

শুরুতেই বলে রাখি, কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ আয়ত্ত করা সোজা কথা না। কারণ, আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, প্রোগ্রামিং এর বিভিন্ন নতুন কনসেপ্ট গুলো বুঝে আত্মস্থ করা এবং সেটাকে কাজে লাগানো অনেক কঠিন, এটাই স্বাভাবিক তা না হলে আপনি অবশ্যই গিফটেড ;)। যদি সি এস ই বা কম্পিউটার সায়েন্স রিলেটেড সাবজেক্ট ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকে তাহলে তো কথাই নাই শেখার পথটুকু আরো দুর্গম/কঠিন বৈকি। কিন্তু তবুও,

যেহেতু আপনি পাইথন সম্পর্কিত এই আর্টিকেল পড়ছেন সেহেতু, ধরে নিচ্ছি পাইথন শিখতে চাওয়ার আগ্রহ বা কৌতূহল আপনার আছে, আর সে কৌতূহলের  জন্যেই অভিবাদন জানাচ্ছি!

পাইথন প্রোগ্রামিং জগতে আপনাকে স্বাগতম!

পাইথন নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। শিখতেও যেমন মজা তেমন কাজ করেও আরাম। আমার অত্যন্ত প্রিয় এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ কর্মক্ষেত্রেও আমার প্রাইমারী ল্যাঙ্গুয়েজ! 🙂 পাইথন সারাবিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বেস্ট পেইড প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ

পাইথন শিখতে আগ্রহী কিন্তু কিভাবে শুরু করবো? 

২০১২ এর শুরুর দিকে পাইথনের সাথে পরিচয় আমার। প্রথমদিকে ভিডিও টিউটোরিয়াল খুব বেশী ভালো লাগতো। তবে, এখন আর্টিকেল, পিডিএফই বেশী প্রাধান্য দেই। চেষ্টা করি নলেজ শেয়ারিং এর, তাই মাঝে মাঝে  টেক ও পাইথন রিলেটেড আর্টিকেল লিখি, এর সাথে সাথে টুকটাক ওপেন সোর্স কন্ট্রিবিউশান করি। এছাড়াও, বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপে পাইথন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করা, কিংবা পাইথন রিলেটেড প্রব্লেম এর এনালাইসিস, ব্যবছেদ ও সমাধান করতে পছন্দ করি।

পিডিএফ বা আর্টিকেল পড়তে তুলনামূলকভাবে সময় কম লাগে এবং কোড প্র্যাকটিস করতেও সুবিধে হয়। প্রোগ্রামিং শেখার ক্ষেত্রে চর্চার কিন্তু কোনো বিকল্প নাই। দেখা যায় অনেক কিছুই পড়া হয় কিন্তু প্র্যাকটিস না করলে সেটা খুব বেশীদিন মনে থাকে না। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, বিগিনারদের ডেইলি অল্প টপিকসে ফোকাস করা উচিত। একসাথে অনেক কিছু পড়ে নেওয়ার থেকে, অল্প টপিক ডিটেইলস এ পড়াটাই বেটার।

আর্টিকেল

বর্তমানে পাইথনের অনেক বাংলা রিসোর্স অনলাইনে একটু সার্চ করলেই পাওয়া যায়। বেশকিছু ভিডিও টিউটোরিয়াল ও কন্টেন্ট ইউটিউব, ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াম গুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে, নিম্নোক্ত ব্লগগুলো সহজ ভাষায় লেখা এবং বেশ জনপ্রিয়ঃঃ

যদি ইংরেজীতে সাছন্দ্য বোধ করেন তবে, মিডিয়ামে প্রকাশিত এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যে রিকমেন্ডেডঃ

পি ডি এফ/অনলাইন বুকস

নিচের বইগুলো আমার পড়া অন্যতম সেরা পাইথন বই। এই বইগুলোর পাইরেটেড কপি হয়তো আপনি সার্চ করেই পেতে পারেন। তবে, মনে রাখবেন, এই কাজ করা দণ্ডনীয় অপরাধ, এবং নীতিগতভাবে অনুচিত। প্রয়োজনে বইয়ের লেখকের ইমেইল এড্রেস সংগ্রহ করে তাকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন। দেখা যাবে, তিনি খুশী হয়েই আপনাকে ফ্রি বই/পি ডি এফ  পাঠিয়ে দিয়েছেন অথবা, ডিস্কাউন্ট দিয়েছেন।  আর আমি মনে করি, বইয়ের লেখকের সম্মানার্থে এবং, আরও ভালো ভালো বই লেখার অনুপ্রেরণা সরূপ সবারই বই গুলো কিনে পড়া উচিত।      

  • Automate the Boring Stuff with Python: Practical Programming for Total Beginners
    এই বইটি আমার খুবই ভালো লাগে। কারণ, বইয়ের উদাহরণগুলো প্রজেক্ট এর মতোই! ফলে, একটা একটা স্টেপ বা, প্রজেেেক্ট শেষ করেই প্রাপ্তির স্বাদ পাওয়া যায়। যেমন, স্ক্রিপ্ট এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করা ও ওয়েবসাইট এর বিভিন্ন এলেমেন্ট এর সাথে ইন্টারেক্ট করা ইত্যাদি ।
  • Fluent Python
    এই বইটির বিশেষত্ব হলো পাইথনের স্পেশাল ফিচার গুলো কে খুব ভালোভাবেই কভার করেছে। পাইথনিক ভাবে কোড লেখার উপরে গুরুত্ব দেয়ার কারণে বইটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ফলে, আপনার যদি অন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে শেখা প্যাটার্ন গুলো ভুলে গিয়ে সুন্দর পাইথনিক কোড লিখার নিয়মাবলী জানতে পারবেন।
  • Python Cookbook
    এই বইটা রেসাইপে ভরপুর। কি নেই এই বইয়ে? প্রজেক্ট বেইজড এই বইয়ে সকল মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে সাথে, সচরাচর করা কাজগুলো যেমন ডাটা প্রসেসিং বা নেটওয়ার্ক প্রোগ্রামিং সহ নানাবিদ টপিকসে আলোচনা করা হয়েছে। এডভান্সড লেভেলের টপিক যেমন মেটা প্রোগ্রামিং ও কভার করার কারণে বলা চলে, আগের বইগুলো থেকে এটা একটু এডভান্সড বৈকি। তবে নিঃসন্দেহে বিগিনার জন্যে অনেক কিছুই শেখার আছে এই বইয়ে!
  • Pro Python
    আরেকটা এডভান্সড বই। পাইথনের বেস্ট প্র্যাক্টিস জানার জন্যে এই বইয়ের বিকল্প আরেকটি বই খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আপনার পাইথন স্কিলকে প্রফেশনাল লেভেলে নিতে চাইলে, বইটি পড়ে ফেলুুুন। 

এছাড়াও দ্বিমিক প্রকাশনী হতে প্রকাশিত সুবিন ভাইয়ার কিছু বাংলা পাইথন বই আছে, যেগুলো রকমারি ডট কমে পেতে পারেন।  বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন। আপানাদের কোন ফেবোরিট বই থাকলে কমেন্ট এ জানাতে পারেন, চেষ্টা করবো আর্টিকেলে যোগ করার জন্যে। 

 পিডি এফ, বা বই পড়ার ক্ষেত্রে একটা জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে, তা হলো বইটি ভালোভাবে পড়া এবং পুরোটুকু পড়া। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা প্রথম কয়েকটা চ্যাপ্টার আগ্রহ নিয়ে পড়লেও কিছুদিন পরেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলি, বা নতুন বইয়ে সুইচ করি। প্রতিদিন হতে কয়েকটা ঘণ্টা বই পড়ার জন্যে ঠিক করে রাখলে বই পড়ার অভ্যেস গড়ে উঠবে।

এছাড়াও স্মার্ট ফোনে পি ডি এফ ডাউনলোড করে রাখলে সেটা, বিভিন্ন অবসরে কিংবা ট্রাফিক জ্যামে বই পড়তে কাজে লাগে! 
 

চর্চা 

পরিশেষে আবারো বলবো চর্চার কোন বিকল্প নাই, যতই বই পড়েন, ভিডিও দেখেন চর্চা না করলে তা কাজে আসবে না। তাই, যখনই কোন আর্টিকেল বা বই ফলো করবেন তখনই ওই বই বা আর্টিকেল এর প্রোগ্রাম গুলো টাইপ করে করে রান করে দেখবেন। এতে করে আপনার কোডিং এবং টাইপিং দুটো স্কিলই বাড়বে। 

বিশেষ করে শুরুর দিকে এটা ভালো কাজে লাগবে। তাছাড়া দেখা যাবে, কোড রান করতে গিয়ে অনেক প্রব্লেম এর সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলো সমাধান করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছুই জানা হবে।   

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.